Sun. Jan 26th, 2020

Sylhetnews71live

Online News Paper

পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে চাই

1 min read

৭১ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় হিসেবে নেই না। আমরা মনে করি জনগণের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে এটা আমাদের এক ধরনের বিনিয়োগ। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক সাজে সজ্জিত এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে জনগণের সেবা যাতে নিশ্চিত করতে পারি তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিয়ে যাচ্ছি।’
‘যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি পুলিশের মাঝেও গুণগত বিরাট পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হবে।’
শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।’
তিনি অনুষ্ঠানে ১১৮ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও পুলিশ পদক সেবা এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক সেবায় ভূষিতদের মাঝে পদক বিতরণ করেন।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ২০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)- সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)- সেবা’ প্রদান করা হয়।
বিপিএম মরহুম মো. আকতার হোসেন (মরনোত্তর) এর পক্ষে তার সহধর্মিনী এবং দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত এএসআই নান্নœু মিয়া হুইল চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মইনুর রহমান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সিনিয়র পুলিশ সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পুলিশ হিসেবেই নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মধ্যদিয়ে যেকোন ধরনের অপরাধ দমন করা সহজ এবং সেই দৃষ্টিকোন থেকে আপনারা কাজ করবেন সেটাই আমি আশা করি।
বর্তমানে দেশে অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকায় বিনিয়োগ আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেন পুলিশ বাহনী চলতে পারে সে ব্যবস্থাও তাঁর সরকার নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে নারী পুলিশের জন্য একটি স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
এছাড়া পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা,এর আওতায় কমিউনিটি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু এবং পুলিশ সদস্যদের জন্য একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার।
তিনি বলেন,‘অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আমরা সেটারও ব্যবস্থা করে দেব।’
প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে তৎকালিন পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দুর্বার প্রতিরোধ এবং মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন,‘১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যগণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্যকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশী শোষকদের পুলিশ নন- জনগণের পুলিশ।’
বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জনগণের সমস্যাকে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখারও আহবান জানান।
২০২০ সালকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৭ মার্চ জাতির পিতা জন্ম গ্রহণ করেছেন। আর ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী। আমরা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি।’
তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের এই দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণ সারবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি, আমাদের তা ধরে রেখে আরো সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যাতে আমাদের দেশের জনগণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সুন্দর এবং উন্নত জীবন পেতে পারে।
দারিদ্র্য হ্রাসে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, এই প্রয়াসে আরো এগিয়ে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতাও আমাদের কাম্য।’

⤵[শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি sylhetnews71live.com.'কে জানাতে ই-মেইল করুন- news.sylhetnews71@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব]
Copyright © Sylhetnews71live.com All rights reserved. | Developed By by Mediaitbd.com.
🔴Share
Facebook

Developed By Mediait