Sun. Jan 26th, 2020

Sylhetnews71live

Online News Paper

দিনে ব্যবসা-রাতে চুরি তাদের নেতৃত্বে নগরীতে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেট

1 min read

৭১ডেস্ক: বেলাল, জামাল ও রুমেল। ওরা সিলেট নগরীর পেশাদার চোর। ব্যবসায়ীর মুখোশে তাদের নেতৃত্বে নগরীতে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেট। চুরিই তাদের মুখ্যপেশা হলেও সব ধরণের অপরাধে তারা সিদ্ধহস্ত। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মে জড়িয়ে আছে তাদের নাম। মাঝে মধ্যে ওই চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও বেশিদিন কারাবাস করতে হয়নি। সব সময়ই প্রভাবশালী একটি মহল তাদের রক্ষাকবজ হয়ে কাজ করেন। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের জড়িয়ে পড়েন অপরাধ-অপকর্মে।
এবার একই সঙ্গে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কারাগারে রয়েছেন পেশাদার চোর চক্রের এই তিন সদস্য। আটকের আটকের আগে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পিকআপ ভর্তি ৯শ’ কার্টুন চোরাই সিগারেট। ২৯ডিসেম্বর নগরীর দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই সিগারেটসহ পেশাদার এই তিন চোরকে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চোর সিন্ডিকেট সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় পুলিশ। এর পুলিশ তাদের রিমাণ্ডে আনার উদ্যোগ নেয়। রিমাণ্ডে নেওয়ার খবর পেয়ে তৎপর হয়ে উঠে চোর সিন্ডিকেটের শেল্টারদাতা প্রভাবশালী মহল। তারা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষায় ওদের ছাড়ানোর তদ্বির শুরু করে। তদ্বিরবাজদের তালিকায় সিটি করপোরেশনের দু’জন কাউন্সিলরসহ বিএনপি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

পুলিশ জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবর ভোরে লালদিঘীরপাড় নতুন মার্কেটস্থ ময়না মিয়ার বিল্ডিং এর ২য় তলার কামাল ব্রাদার্স নামীয় দোকানের গুদামঘরের তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকানের মালিক কামাল উদ্দিন বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা (নং ৪৪(১২)২০১৯) দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার এসআই অঞ্জন কুমার দাস ও এসআই খোকন দাসের নেতৃত্বে পুলিশ ২৯ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে নগরীর দক্ষিন সুরমার মোগলাবাজার ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চোরাই ৯শ’ কার্টুন সিগারেট (ব্রিটিশ-আমেরিকা টোবাকো কোম্পানীর) ভর্তি একটি পিকআপ (ছফরুল ইসলাম রুমেল পরিবহণ নামীয় সিলেট-ন-১১-০৭৪০) জব্দ করা হয়।

এর পর একে ধরা পড়ে সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের সদস্য সালুটিকরের চৌধুরী পাড়ার মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে ও বর্তমানে নগরীর চৌকিদেখির (শাহ সুন্দর আলীর বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া) বাসিন্দা বেলাল ওরফে বিল্লাল (৩১), এয়ারপোর্ট থানাধীন কান্দিপাড়া গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন (৪০) ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলীর মৃত শফিক মিয়ার ছেলে ও বর্তমানে গোটাটিকরের বাসিন্দা ছফরুল ইসলাম রুমেলকে (৩১)।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের সদস্য বলে জানতে পারে পুলিশ।

অভিযানকালে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে গ্রেফতার হওয়া চোর বেলালের স্ত্রী পারুলকেও। তাকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানতো না পারুলও একটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি। সাজা হওয়ার আগে ওই মামলায় (নং-২৭/১১) তিনি ১৭দিন কারাভোগ করে বেরিয়ে ফেরার হন। বিমানবন্দর থানা পুলিশের খাতায় পারুল ফেরারি হলেও তিনি ওই থানাধীন নগরীর ব্যস্ততম চৌখিদেখি এলাকায় স্বামীর সঙ্গে প্রকাশ্যে ব্যবসা করছেন। তিনি যেখানে ব্যববসা করছেন-ওই জায়গার মালিক স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। তার জায়গায়ই তৈরী হয়েছে বেলাল-পারুলের চা-স্টল। আর এই চা-স্টল ঘিরেই গড়ে উঠেছে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা। চা-স্টলের পেছনে থাকা একটি ঘরে বিভিন্ন সময় সংরক্ষণ করা হয় চোরাই ও চোরাচালানের মালামাল। শুধু চা-স্টলই নয়, বেলাল-পারুলের একটি কসমেটিক্স’র দোকানও রয়েছে চৌকিদেখি এলাকায়। এই দোকান ঘিরেও আছে চোরাই পণ্য বিকিকিনির গুঞ্জণ।

পুলিশ বলছে, শুধু বেলাল দম্পতি-ই নয়, ছফরুল ইসলাম রুমেল (৩১) ও জামাল উদ্দিনও (৪০) পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের আছে পরিবহণসহ নানা ব্যবসা। এদের মধ্যে রুমেলের আছে নিজস্ব গাড়ি, কলোনী। সমাজে তাদের পরিচয় ব্যবসায়ী হলেও পুলিশের খাতায় এখন তারা অপরাধী, সংঘব্ধ চোর দলের সদস্য। চুরির মালামাল পাচারের সময় ধরা পড়ার পর সমাজে এই তিন চোরের মুখোশ উম্মেচিত হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চোর সিন্ডিকেট সম্পর্কে অনেক তথ্য জানিয়েছে তারা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চোর সিন্ডিকেটের তিন সদস্য ধরা পড়ার পর বিপাকে পড়েছেন তাদের নিয়ন্ত্রনকর্তারা। তারা নিজেদের রক্ষার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে রিমাণ্ডের ব্যাপারে দফারফারও চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছে। চোরদের পক্ষে তদ্বিরকারীদের তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই অঞ্জন কুমার দাস বলেন, গ্রেফতারের পর আসামীদের আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শিগগিরই আসামীদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিমান্ডে আসামীদের কাছ থেকে চোর সিন্ডিকেট এবং তাদের সহযোগীদের নাম-পরিচয় পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে, বেলালের সঙ্গে তার স্ত্রী পারুলকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই অঞ্জন কুমার দাস বলেন, অভিযানকালে কোনো নারীকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।সুত্র_শ্যামল সিলেট।

⤵[শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি sylhetnews71live.com.'কে জানাতে ই-মেইল করুন- news.sylhetnews71@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব]
Copyright © Sylhetnews71live.com All rights reserved. | Developed By by Mediaitbd.com.
🔴Share
Facebook

Developed By Mediait