Sun. Jan 26th, 2020

Sylhetnews71live

Online News Paper

ফিরেদেখা- ২০১৯ঃ সিলেটের রাজনীতি

1 min read

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৯ সালে তাদের রাজনৈতিক কোন কর্মীর খুন দেখতে হয়নি সিলেটবাসীকে। কিংবা কোন কর্মীকেও দেখতে হয়নি রাজনৈতিক সহযোদ্ধার রক্ত। এই এক বছর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা সংঘাতে কেড়ে নেয়নি কোন বাবা-মার সন্তান। প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসায় হয়নি জ্বালাও-পোড়াও। তাই বলাই যায় ‘খুনহীন’ সিলেট রাজনীতির এক বছর।

সর্বশেষ বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ১৪ জুলাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের বিরোধে ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম লিটন হত্যার পর ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর খুনের রাজনীতি বন্ধ ছিলো সিলেটে। এরপর ফের রাজনৈতিক খুনের হিসেব শুরু হয় ২০১০ সালে। সে সালের ১২ জুলাই অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে নগরীর টিলাগড়ে খুন হন এমসি কলেজের গণিত বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী উদয়েন্দু সিংহ পলাশ।

উদয়েন্দু সিংহ পলাশ হত্যার মধ্যদিয়ে সিলেটের রাজনীতিতে খুনের হিসেব শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাতে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু খুনের মধ্যদিয়ে। সিটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয়ের পর রাজুসহ নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের পর কুমারপাড়া পয়েন্টে নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ক্যাডাররা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এর ভেতর সিলেটের রাজনীতিতে কোন বছরই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাদ পড়েনি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এক দলের সাথে অপর দলের সংঘর্ষসহ নানাভাবে ঘটেছে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড। এমনকি টর্চার সেলে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও আছে। গত ১০ বছর সিলেটে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ছাত্রদল মিলে মোট ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মোট ১২ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন আর ছাত্রদলের খুন হয়েছেন ৭ জন। উভয় দলেরই অধিকাংশ খুনের ঘটনা ঘটেছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে।

কিন্তু অতীতে খুনের রাজনীতিতে কাটলেও ২০১৯ সালটা ভালোই গেলো। তাই আগামীর দিনগুলোতেও ভালোর প্রত্যাশা সিলেটের সাধারণ মানুষের। সম্প্রীতির নগরীতে খুনের রাজনীতি চান না সংশ্লিষ্টরাও। তাইতো খুনহীন সিলেটের ছাত্ররাজনীতির ২০১৯ সালকে সাধুবাদ জানিয়ে চিরতরে রক্তের হোলিখেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা পূর্ববর্তী বা স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখি সেখানে খুনোখুনি ছিলো না। বরং দেশের স্বার্থে মানুষের স্বার্থে বিভিন্ন দাবি আদায়ে ছিল আন্দোলন সংগ্রাম করা রাজনীতির সুন্দর এক ইতিহাস। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে দেখা গেছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে সংঘাত তৈরি হয়। এতে প্রাণহানি ঘটে।

তাই ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীদের বুঝতে হবে তাদের কাজ কি। সে অনুযায়ী তাদের চলতে হবে। একই সাথে অভিভাবক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দকে তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে। এতে করে সম্প্রীতির সিলেটের ঐতিহ্য বজায় থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘবছর পর খুনের রাজনীতি থেকে সিলেটের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বেরিয়ে আসার কারণে। আশা করবো তারা সম্প্রীতির বজায় রেখে সিলেটের ঐতিহ্য ধরে রাখবেন।’

এদিকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অতীত আছে। দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর ছাত্রলীগ এর একটি অংশ। তাই আমার প্রত্যাশা হচ্ছে সকলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা। সকলকে একটি জবাবদিহিতার আওতায় আনা। আশা করি ২০১৯ সালের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আগামীতেও সিলেটের রাজনীতি পরিচালিত হবে।’

আর মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ছাত্রদলে এখন আর কোন কোন্দল নেই। একসময় গ্রুপিং থাকলেও এখন সবাই এক হয়ে কাজ করছে। তাই তাদের মধ্যে কোন মারামারির ঘটনা ঘটছে না বলে তিনি জানান।

নাসিম হোসাইন বলেন, প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর যদি নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি দেয়া হয় তাহলে সমস্যা আরো কমবে। বিশেষ করে ভোটের মাধ্যমে কমিটি হলে আর কোন সমস্যাই থাকবে না। বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে সে পরামর্শ থাকবে ছাত্রদলের প্রতি। তবে আমি মনে করি বর্তমানে সিলেট ছাত্রদল একটি সংগঠিত দল। তাদের মধ্যে কোন বিবাদ নেই।

তবে আর যাই হোক ভালো-মন্দ সকল কিছুর দায় বর্তায় ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের উপর। কারণ ১০ বছরে ১৯টি খুনের হিসেবে কেবল যুবলীগ নেতা জগৎজোতি তালুকদার ছাড়া বাকি সবগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদলে। তাই দায় যেমন তাদের উপর তেমনই খুনহীন ২০১৯ সাল পার করার কৃতিত্বটাও তাদের প্রাপ্য।

অবশ্য এটাকে ইতিবাচক এবং আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ। তিনি বলেন, ‘অতীতে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা একান্ত নিজেদের স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে ঘটেছে। ছাত্রলীগের কোন অনুষ্ঠান বা মিটিং মিছিলে কোন খুন হয়নি। তবুও যারা খুন হয়েছেন তাদের পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি খুনের সাথে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।

একই সাথে চেষ্টা করেছি যাতে এমন ঘটনা না ঘটে। আর কোন বাবা-মা যেন সন্তান হারা না হন। যদিও বর্তমানে ছাত্রলীগের কমিটি নেই তবুও আমরা যারা সাবেক কমিটিতে ছিলাম আমরা নানাভাবে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার কাজ করছি। আশা করি আগামী দিনেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ তবে ছাত্রদল এটিকে একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করছে। তাদের মতে ছাত্রদলে প্রকৃত ছাত্রদের আগমন ঘটছে। তাই খুন বা মারামারি কমেছে।

সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান বলেন, বর্তমানে ছাত্রদলে কোন্দল নেই। তাছাড়া প্রকৃত ছাত্র ও ভালো পরিবারের সন্তানরা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে এজন্য হত্যাকাণ্ড কমেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সাল অত্যন্ত ভালো কেটেছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

⤵[শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি sylhetnews71live.com.'কে জানাতে ই-মেইল করুন- news.sylhetnews71@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব]
Copyright © Sylhetnews71live.com All rights reserved. | Developed By by Mediaitbd.com.
🔴Share
Facebook

Developed By Mediait