Sat. Jan 25th, 2020

Sylhetnews71live

Online News Paper

টাকার পাহাড়ে জিয়াউল,প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ

1 min read

সিলেটনিউজ৭১ডেস্কঃঃ
হাওর-বিল থেকে বালু মহাল, শ্মশান থেকে সংখ্যালঘু পরিবারের ভূমি দখল ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, কোথায় নেই তিনি! সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী জিয়াউল হকের প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ। তারা মুখ খোলার সাহস পাননা। কেউ প্রতিবাদের চেষ্টা করলেই মামলা-হামলা-রক্তচক্ষু। সরকার পাল্টালেও পাল্টেনা তার প্রভাব। কারণ-তিনি খোলস পাল্টানোয় দক্ষ। তাছাড়া উপঢৌকনের সুবাদে ক্ষমতাসীন দলের বিশেষ মহলের আশীর্বাদেও ধন্য তিনি। সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ জানেন, দু’ একটি ব্যতিক্রম ছাড়া হাওরাঞ্চলের প্রায় সব সাংসদের সাথে তার বিশেষ সখ্য রয়েছে। আর তাই তার প্রভাবের কাছে নির্যাতিত মানুষ অসহায় বোধ করেন। মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সিলেটের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়েছেন জিয়া ও তার দলবলের হাতে নির্যাতিত-ক্ষতিগ্রস্ত শাহীন চৌধুরী। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের জামাইপাড়ায়। দুদক সূত্র জানিয়েছে, তার আমলনামা তদন্তে প্রস্তুত তারা। অপেক্ষা কেবল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শের।
অভিযোগ অনুযায়ী সুনামগঞ্জের বিভিন্ন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে জিয়াউল হক। একসময় পান-সিগারেট, ফল ও সুদের ব্যবসা করতেন নুরুল। বর্তমানে তারই ছেলে জিয়াউল হক হাজার কোটি টাকার মালিক। সুনাগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাওর-বিলের একটি বড় অংশ তার দখলে। ‘জাল যার-জলা তার’- এই নীতিতে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সংগঠন বা সমিতির নামে সরকারি জল-মহাল ইজারা দেয়া হয়। চতুর জিয়া সেসব সংগঠন বা সমিতির নামে লিজ নেয়া হাওর বা বিলগুলো নাম মাত্র টাকা অনুদান দিয়ে বেআইনীভাবে সাবলিজ নেন। এভাবে মৎস্যজীবীদের বঞ্চিত করে টাকার পাহাড় বানাচ্ছেন তিনি। এবছরও জিয়া সাবলিজের মাধ্যমে দখল করেছেন সুনামগঞ্জ সদরের জোয়ালভাঙ্গার হাওর, লাইয়া-গজারিয়া জলমহাল, করচা নদী, ছনুয়া-বনুয়া বিল, তাহিরপুরের বগিয়াদী জলমহাল ও সোনাতলা বিল। এসব হাওর-বিল লিজ নেয়া সংগঠনগুলোর চরম দরিদ্র মৎস্যজীবী সদস্যরা নামমাত্র পারিশ্রমিকে সারাদিন হাওরে মাছ ধরার কাজ করেন। সুনামগঞ্জে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয় না। চতুর জিয়া পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানসহ অন্যান্য প্রভাবশালীর নাম ভাঙিয়ে, কখনোবা ভীতি ছড়িয়ে তার কাজ হাসিল করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরিদ্র মৎস্যজীবীদের দাবি, জিয়াউলের নেয়া হাওর-বিলের ইজারা বা সাবলিজ বাতিল করলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অধিকার ফিরে পেতেন। এতে তাদের জীবনের মানও উন্নত হতো। শুধু হাওর বা বিল দখলই নয়, জিয়াউল হক কৌশলে কৃষকদের রক্তও শোষণ করছেন। ভর্তুকির অংশ হিসাবে সরকার প্রতিবছর বাজারমূল্যের দ্বিগুণ দামে ধান ও চাল ক্রয় করেন। জিয়াউল প্রভাবশালী কয়েকটি মহলকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারের খাদ্যগুদাগুলোতে নামে-বেনামে ধান-চাল সরবরাহ করেন। এমনকি পঁচা ধান সরবরাহের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। একারণে সুনামগঞ্জের প্রকৃত কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। মামলা-হামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছেন না।
দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগে থেকে আরো জানা গেছে, যাদুকাটা ও ওয়েজখালী নদী অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে জিয়াউল বালু ও পাথর উত্তোলন করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজী ও চাঁদাবাজীর অভিযোগও রয়েছে। এসব কাজের জন্য তার নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও আছে বলে জানা গেছে। চাতুরির মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের নামে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে জিয়া গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সামান্য পান দোকানদার পিতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন তার রাজকীয় জীবন-যাপন। শহরতলীর সার্কিট হাউজের সামনে তার বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। বাড়িটিতে বিলাসবহুল সুইমিংপুল রয়েছে বলেও জানিয়েছে তার সাথে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র। ওয়েজখালির বাগানবাড়ির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এছাড়া এখানে রয়েছে হক সুপার মার্কেট, হক অটো রাইসমিল। শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে জিয়ার। এছাড়া সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের শনির হাওর, খরচার হাওর ও লাইয়ার হাওরে আছে কয়েকটি অবৈধ বিল। সেখানে তার নামে যে ইটখলা রয়েছে তার বাজারমূল্য শতকোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। মোটমুটি জিয়ার নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও অনুমান সংশ্লিষ্টদের।
জিয়াউল হকের উত্থান বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। তৎকালীন সরকার দলীয় হুইপ ফজলুল হক আসপিয়ার বিশ্বস্থ খলিফা ছিলেন তিনি। এই সুযোগে জলমহাল, বালুমহাল, খাদ্য গুদামে ধানচাল সরবরাহসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে টাকা বানাতে শুরু করেন জিয়া। সুনামগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত তার অফিসটি তখন বিএনপির অঘোষিত প্রধান কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হতো। তাছাড়া সাবেক হুইপ আসপিয়ার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ও ছিল সেটি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে কিছুদিন থমকে ছিলেন জিয়া। ২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সাথে পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধোপাজান ও ফাজিলপুর বালু মহালে চাঁদাবাজি, পুলিশ নিয়োগে দালালী, থানার দালালিসহ জায়গা দখল, খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেট করে পঁচা চাল সরবরাহ, নামে-বেনামে গুদামে ধান সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়েছেন জিয়া।
তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক বুরহান আহমেদ বলেন, মাসের শেষে জমাকৃত অভিযোগগুলো বাছাই করে ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তদন্তের জন্য নির্বাচিত আবেদনগুলো আবার আমাদের কাছে ফেরত পাঠানো হয় এবং আমরা তদন্ত করি। এ অভিযোগের ক্ষেত্রেও তাই হবে। ঢাকা থেকে নির্বাচিত হলে আমরা তদন্ত করবো। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, জিয়াউলের ব্যাপারে যখন-তখন তদন্ত শুরু হতে পারে।
সবগুলো অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে জিয়াউল হকের মোবাইল নম্বরে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারেও সুনামগঞ্জে জোর সমালোচনা। বিশেষ কয়েকজন কাছের মানুষ ছাড়া তিনি আর কারও ফোন ধরার প্রয়োজনই মনে করেন না! একাত্তরের  কথা

⤵[শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি sylhetnews71live.com.'কে জানাতে ই-মেইল করুন- news.sylhetnews71@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব]
Copyright © Sylhetnews71live.com All rights reserved. | Developed By by Mediaitbd.com.
🔴Share
Facebook

Developed By Mediait