Sun. Jan 26th, 2020

Sylhetnews71live

Online News Paper

কেমন ছিল ২০১৯ কেমন হবে ২০২০ ডিজেরাই মাতিয়েছিলো সিলেটের থার্টিফার্স্ট

1 min read

 

এম,এ,রউফ

সিলেটে নির্জনতায় ছিল জমকালো আয়োজন। ছিল থার্টিফার্স্টের সব উন্মাদনা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল থার্টিফার্স্ট নাইটের সিলেটে। মদ-বিয়ারের নেশালাগা আলো-আঁধারি পরিবেশ। সেই সঙ্গে ড্যান্স। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে থার্টিফার্স্ট নাইটে নতুন বছরকে বরণ করে নিলেন সিলেটের মানুষ ২০১৯।

তবে, প্রকাশ্যে ছিল না কোন আয়োজনই। সব আয়োজনই হয়েছিল ইনডোর। থার্টিফার্স্টের উন্মাদনা ঠেকাতে সকাল থেকে মাঠে কাজ শুরু ছিলো পুলিশের। আর বিকাল হতেই সিলেটে শুরু হয় পুলিশের কড়াকড়ি। বসানো হয় চেকপোস্ট। চলে তল্লাশি। ভিআইপি এলাকাগুলোতে বাড়িয়ে দেয়া টহল। শুধু পুলিশই নয়, থার্টিফার্স্টের উন্মাদনা ঠেকাতে মাঠে নামানো হয় র‌্যাব। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় আগে থেকেই। এ অবস্থায়ও থার্টিফার্স্টের উন্মাদনার কমতি ছিল না প্রবাসী শহর সিলেটে।
থার্টিফাস্ট উপলক্ষে সিলেটে রোজভিউ হোটেলে করা হয়েছিল পার্টির আয়োজন। ইংরেজি নতুন বছরের শুভ লগ্নে নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিলেন তরুণ-তরুণীরা। একই সঙ্গে ওই হোটেলের পার্টিতে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন অধিক সংখ্যক প্রবাসী। একই সঙ্গে নগরীর স্টারপ্যাসিফিক হোটেল, রিসোর্ট হলিডে, নাজিমগড় রিসোর্টসহ বেশ কয়েকটি হোটেলে ইনডোর আয়োজন করা হয়েছিল থার্টিফার্স্ট। এইসব হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে থার্টিফাস্টের আয়োজনে ছিল গান ও ড্যান্স। একই সঙ্গে মদ ও বিয়ারের ছড়াছড়িও ছিল।

এদিকে, থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে সিলেটের চা বাগানের বাংলোগুলোতে থার্টিফার্স্টের বিশেষ পার্টির আয়োজন করা হয়। লাক্কাতুরা চা বাগানসহ বেশ কয়েকটি বাগানের বাংলোতে বিশেষ পার্টির আয়োজন চলে। এসব আয়োজনের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। তবে, এসব আয়োজনে ছিল না কোন বাড়াবাড়ি। সিলেটের ডিজে গার্লরা বিভক্ত হয়ে থার্টিফার্স্টের উন্মাদনা ছড়িয়েছেন সিলেটে। তাদের উন্মাতাল আচরণ ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে আগে ভাগেই ইনডোর আয়োজকদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, হোটেল মোটেল কিংবা বাসা বাড়ির আয়োজনে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু কোন আয়োজনে বাড়াবাড়ি হলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। সন্ধ্যা নামতেই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া সব ক’টি মোড়ে মোড়ে চালানো হয় তল্লাশি। এসব তল্লাশির কারণে চেকপোস্ট এলাকায় যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে আসে। তখনকার সময়ের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. রহমতুল্লাহ রাতে জানিয়েছিলেন, থার্টিফার্স্টের উন্মাদনা ঠেকাতে পুলিশ সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে। তবে, তখন থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে বাইরে কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়নি। আর যেসব এলাকায় ইনডোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সেখানেও বাড়াবাড়ি ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে, বিকাল থেকে বিশেষ বিশেষ এলাকায় র‌্যাবও টহল বাড়িয়েছিল। এদিকে, থার্টিফাস্টের দিন সকাল থেকেই উন্মাতাল পার্টিতে যোগ দিতে চলে যান সিলেটের ডিজে গার্লরা। সন্ধ্যা থেকে ইনডোর অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখতে তারা পারফর্ম শুরু করেন। আর এসব আয়োজনে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন ডিজেরা। সিলেটের আয়োজন ঢাকা থেকে ডিজে গার্লদের আনা হয়েছে। দু’-একটি হোটেলে এসেছেন বিদেশী ডিজেরা। এদিকে, পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন সিলেটে। তারা সিলেটের পর্যটন এলাকা জাফলং, লালাখাল ও সিলেটের বাগানগুলোতে ভিড় জমিয়েছিলেন।

থার্টিফার্স্টে সিলেটে মায়াবী জলসা ২০২০

থার্টিফার্স্টকে ঘিরে প্রস্তুত সিলেটের ডিজে গার্লরা। ড্যান্স, মদ ও বিয়ারের আলো-আঁধারি পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করতে ইতিমধ্যে দুই ডজন আলোচিত ডিজে প্রস্তুতি শেষ করেছে। একই সঙ্গে সিলেটের থার্টিফার্স্ট আয়োজনকে আরও বর্ণিল করতে এবার ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে ডিজে গার্লদের। সিলেটের চা-বাগানী বাংলো কিংবা শহরের অভিজাত হোটেলে বসছে মায়াবী জলসার আসর। কেউ কেউ ছুটে যাচ্ছেন জাফলং, লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। থার্টিফার্স্ট এলেই সিলেটে উন্মাদনা বাড়ে। বাড়ে থার্টিফার্স্টের আমেজ। ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রবাসী এই শহরে উৎসবের কমতি থাকে না। তবে, এই উৎসব কেবল ডিস্কো গানের মধ্যই বন্দি থাকে না। থার্টিফার্স্টে রাত যত বাড়ে তত অজানায় হারিয়ে যায় ডিজে গার্লরা। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে হারিয়ে যায় অজানায়। এতে ঘটেও কেলেঙ্কারি। শুরু হয় তোলপাড়। প্রবাসী শহর সিলেটে থার্টিফার্স্ট নাইটকে বরণ করতে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শীত মওসুম এলেই সিলেটে প্রবাসীদের আনাগোনা  বাড়ে বেশি। এবারও শীত উপলক্ষে প্রচুর সংখ্যক লন্ডন প্রবাসী এসেছেন সিলেটে। তাদের ঘিরেই চলছে থার্টিফার্স্টের মূল আয়োজন। কয়েকজন প্রবাসী থার্টিফার্স্টের জন্য সিলেট নগরীর বিভিন্ন ফ্ল্যাটবাড়িতে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় থার্টিফার্স্টের আয়োজন করেছেন বলে গোপন সুত্রে জানা যায় । আর এই আয়োজনের মধ্যমণি হয়ে উঠছেন সিলেটের ডিজে গার্লরা। ইতিমধ্যে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বুকিং হয়ে গেছেন তারা। থার্টিফার্স্টের দিন দুপুর থেকে তারা চলে যাবেন পার্টিতে। জানা গেছে, কয়েকজন প্রবাসীর উদ্যোগে এবার সিলেটের বিমানবন্দর এলাকাসহ শহরতলীর বিভিন্ন পাহাড়ি বাংলোতে থার্টিফার্স্টের জমকালো আয়োজন হবে। এই আয়োজনের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেউ কেউও দাওয়াত পেয়েছেন। এসব পার্টিতে মেডিকেল কিংবা বিশ্ব বিদ্যালয় পড়ুয়া জিজে গার্লরা অংশ নেবেন। গেল বার শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকার দু’টি বাংলোতে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে অংশ নিয়েছিলেন অনেকেই। গেল বার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একজন জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকার বাংলোবাড়িতে প্রবাসীর উদ্যোগে থার্টিফার্স্টে অংশ নিয়েছিল ১০-১২ জন ডিজে গার্ল। রাত নামতেই থার্টিফার্স্ট উদযাপনে তারা ইংলিশ মদের নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। মধ্যরাত হতেই আয়োজকদের সঙ্গে উন্মাতাল ড্যান্সে মেতে উঠেছিলেন তারা। আর গভীর রাতে যে যার মতো  প্রেমিক কিংবা আয়োজক প্রবাসীদের সঙ্গে হারিয়ে যান অজানায়। ভোররাত পর্যন্ত এই আয়োজন চলেছিল বলে জানান ওই যুবক। এবারও অনেকটা গোপনে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হলেও প্রস্তুতির কমতি নেই বলে জানা গেছে। সিলেটের একটি হোটেলে থার্টিফার্স্ট ডিজেতে নেশা করে মাতাল হয়ে উঠেছিলেন সিলেটের আলোচিত ডিজে গার্ল মৌ। এরপর ভোররাত পর্যন্ত তিনি মনোরঞ্জন করে গেছেন আয়োজকদের সঙ্গে। বরাবরের মতো এবার সিলেটের হোটেলে থার্টিফার্স্টের আয়োজন রয়েছে। সিলেটের অভিজাত এ হোটেলে সিলেটের ডিজেরা ছাড়াও এতে ঢাকার ডিজেরা অংশ নেবেন। আর থার্টিফার্স্টকে ঘিরে হোটেলেও প্রবাসীদের উদ্যোগে পার্টির আয়োজন চলছে। একই সিলেটের সিলেটের অভিজাত বেশ কয়েকটি চাইনিজ হোটেলেও চলছে থার্টিফার্স্টের প্রস্তুতি। তবে,  হোটেল কর্তৃপক্ষ থার্টিফার্স্ট উদযাপনের প্রস্তুতি নিলেও বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে বেশ কঠোর ভূমিকা পালন করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ থার্টিফার্স্টে সিলেটে তার প্রস্তুতির কমতি নেই। মুন্নির নেতৃত্বে এবারের থার্টিফার্স্ট নাইট মাতিয়ে রাখতেন কয়েকজন হাই-প্রোপাইল ডিজে প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর তারা থার্টিফার্স্টের নাইটে হারিয়ে যাবেন প্রবাসীদের ডিজে পার্টিতে। এর বাইরেও মনি, নদী ও শাওন নামে তিন ডিজে গার্লকে নিয়ে থার্টিফার্স্ট আয়োজন চলেছে। আর এবারের থার্টিফার্স্টে অন্যতম আকর্ষণ রয়েছে তিশা ও ট্রিনা।

গত তিন বছর ধরে তারা সিলেটে আলোচিত ডিজে গার্ল হিসেবে বেশ পরিচিত। সিলেটের যুবকদের কাছে বহুল পরিচিত ওই দুই ডিজে গার্ল যে আসরে উপস্থিত হবে সেখানে থার্টিফার্স্ট মেতে উঠবে তত বেশি। সিলেটের অলিভ ট্রি শোভা, মাহি, নাহিদা এবং মিতালীও রয়েছে থার্টিফার্স্টের তালিকায়। তাদের ঘিরে জমকালো আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে নগরীর বিভিন্ন ফ্ল্যাটবাড়ি ও পাহাড়ি বাংলোতে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ৫ থেকে ১৫ হাজার দরে এক রাতের জন্য বুকিং হয়ে গেছে। এদিকে, সিলেটের থার্টিফার্স্টের আয়োজনে যাতে উন্মাদনা কম হয় সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। থার্টিফার্স্টের আগের সকাল থেকে পুলিশের বিশেষ টিম টহল শুরু করবে সিলেটে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে চলবে অভিযানও।
ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে চারদিকে যে নোংরামি আর নষ্টামি শুরু হয়, এটি তারই অংশবিশেষ।

⤵[শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি sylhetnews71live.com.'কে জানাতে ই-মেইল করুন- news.sylhetnews71@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব]
Copyright © Sylhetnews71live.com All rights reserved. | Developed By by Mediaitbd.com.
🔴Share
Facebook

Developed By Mediait